জিবি ম্যাগসাল (ম্যাগনেসিয়াম সালফেট)
ম্যাগনেসিয়াম
৯.৫%, সালফার ১২.৫%
ম্যাগনেসিয়াম
সালফেটের ঘাটতি/অভাব এর লক্ষণঃ গাছে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট এর অভাবে পুরনো পাতার শিরাগুলো সবুজ রেখে মাঝখানের অংশ
হলুদ হয়ে যায় যা ক্লোরোফিল তৈরি ব্যাহত করে, ফলে গাছের বৃদ্ধি
কমে যায়। পাতা লালচে বা বাদামী হয়ে ঝরে পড়ে এবং ফলন হ্রাস পায়। এর অভাবে
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।
পাতায় ক্লোরোফিল উৎপন্ন হয় না এবং তাই খাদ্য প্রস্তুতির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত
হয়। উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, পাতা ও ফল শুকিয়ে যায়।কান্ডের
বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ফলন কমে যায় এবং ফল অপরিপক্ক থাকতে পারে।
জিবি
ম্যাগসাল ব্যবহারের উপকারিতাঃ
গাছের পাতা সবুজ রাখে ও খাদ্য তৈরিতে
সহায়তা করে।উদ্ভিদের পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ বৃদ্ধি হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণ
প্রক্রিয়ায় আরও বেশি খাদ্য উৎপন্ন হয়।
ফসলের ফলন বৃদ্ধি করে, শস্য এবং ফলের আকার বৃদ্ধি করে এবং পুষ্টি ও গুনগত মান
বজায় রাখে।
ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন, চিনি এবং চর্বি গঠনে সহায়তা
করে।
উদ্ভিদের শিকড় দ্বারা পুষ্টি গ্রহণের জন্য একটি পাম্প হিসাবে কাজ করে। ডালপালা,
মূলের অগ্রভাগ, শস্য এবং ফল সহ উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে নিবিড় জৈবিক ক্রিয়াকলাপ
চালাতে সহায়তা করে।
সালফারের উপস্থিতির কারণে, ধানক্ষেতে প্রয়োগের ফলে চিটা ধান হয় না, চালের ওজন
বৃদ্ধি পায় এবং জমির সমস্ত ধান একই সময়ে পরিপক্ক হয়।
ফসলের ফলন বৃদ্ধি পায়।
ব্যবহারবিধি: বীজ বপন বা চারা রোপণের
আগে ছিটিয়ে প্রয়োগ করুন।
ফসলের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম ও সালফারের ঘাটতি হলে স্প্রে মেশিনের সাহায্যে গাছ ভিজিয়ে
দিন অথবা সরাসরি ছিটিয়ে লাগান।
প্রয়োগ
পদ্ধতি ও মাত্রাঃ জমি তৈরিতে শেষ চাষে প্রতি
একর জমিতে ৬-৮ কেজি হারে জিবি ম্যাগসাল সার ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে ভালো ফলাফল
পাওয়া যায় অথবা ফসল লাগানোর ২-৩ সপ্তাহ পর ছিটিয়ে প্রয়োগ করা যায়। যদি ম্যাগনেসিয়ামের
অভাব বেশি হয়, তবে পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ বাড়ানো উচিত।
স্প্রে করার ক্ষেত্রে প্রতি ১০ লিটার জলে ১০০-১৫০
গ্রাম জিবি ম্যাগসাল সার ভালো করে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে স্প্রে করুন।